আওয়ামী লীগই প্রথম রাজাকারের হাতে তুলে দিয়েছিলো পতাকা

Published: 2015-12-12 12:34:48

News Image

 


বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, হাসিনা ভুলে যান কেন, আওয়ামী লীগই প্রথম রাজাকারদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে।  জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচনী ঐক্য ছাড়া বিএনপির আর কোনো সম্পর্ক নেই।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় মিথ্যাচার করে যে, যুদ্ধাপরাধীর হাতে বিএনপি নাকি পতাকা তুলে দিয়েছে। কিন্তু নূরু মওলানা, মোশাররফ হোসেন, একে ফয়জুল হকদের মন্ত্রী বানিয়ে আওয়ামী লীগই প্রথম রাজাকারদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে এই আওয়ামী লীগই জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচার এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গিয়েছে। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগই নিজেদের স্বার্থে  বারবার রাজাকারদের পুনর্বাসিত করেছে।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ সীমান্ত পাড়ি দেওয়া দল। বিএনপিই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের দল। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা এই দলে আছেন।’

দেশের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের কঠিন সংকট উত্তরণে আন্দোলন করতে হবে। আমাদের সঙ্গে জনগণ আছে।’ তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারি জনগণ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। এবারের আন্দোলনেও তারা সাড়া দেবে। এই আন্দোলন শুরুর আগে এবারের বিজয়ে পুরো মাস আমাদের কর্মসূচি পালন করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘দলটির সাধারণ সম্পাদক একজন বিদেশী মন্ত্রীর সর্ম্পকে এমন ভাষায় কথাবার্তা বলেন। আওয়ামী লীগের অবস্থা এমন হয়েছে, তরা বিএনপিকে গালিগালাজ দিতে দিতে এখন বিদেশীদেরও গালিগালাজ করছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পুলিশ বাহিনীতে লোক নিচ্ছে, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা সেখানে নিয়োগ পাচ্ছে। বিচার বিভাগেরও একই অবস্থা।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীতেও তারা একই অবস্থা করে ফেলেছে। সেনাবাহিনীতে এখন নিরপেক্ষতা নেই। যারা আওয়ামী লীগ করে, যারা পদলেহন করে, তারাই প্রমোশন পাচ্ছে। অতীতে সেনাবাহিনীতে এমন দলীয়করণ ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন । বিডিআর হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘৫৭ জন সেনা অফিসারের হত্যার সঙ্গে হাসিনা, মঈন উদ্দিন জড়িত। একদিন এই হত্যাকাণ্ডের অবশ্যই সুষ্ঠু বিচার হবে।’

শেখ মুজিব যুদ্ধ ঘোষণা করেননি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। শেখ সাহেব মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেননি। তার দলের নেতা তাজউদ্দিন সাহেবের মেয়ে তার বইতে লেখেছেন, বাবা (তাজউদ্দিন আহমেদ) মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা রেকর্ড করার জন্য গিয়েছিলেন শেখ সাহেবের কাছে। তিনি বলেছিলেন, তোরা কি চাস আমি রাষ্ট্রদ্রোহী হই।’ একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের উপ অধিনায়ক এ কে খন্দকার তার লেখা ৭১ ভেতরে-বাইরে বইতেও একই কথা লিখেছেন । তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশের মানুষকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছিলেন। জিয়া সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধে অংশ না নিলে মুক্তিযুদ্ধ সফল হতো না।’


 
 

Leave a Comment

 
  Please Login For Comments. Or Registration(Sign Up)