নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ মার্কেট অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে

Published: 2019-04-06 11:20:45

News Image

 


নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ মার্কেট অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে। এ তালিকায় যেমন সিটি করপোরেশনের মার্কেট রয়েছে, তেমনি রয়েছে নাম করা বেসরকারি মার্কেটও। ইতোমধ্যেই এমন ১৫টি মার্কেটকে চিহিৃত করে অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের ৭৫টি বিপণিবিতান পরিদর্শন করে অগ্নি ঝুঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে মারাত্মক ঝুকিতে রয়েছে ২০টি মার্কেট।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কেটগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। কোনো নিয়ম-নীতিই মানা হচ্ছে না। আগুন নির্বাপক যন্ত্র নেই, পানি নেই, নেই ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম। মার্কেটের ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, বিদ্যুতের সাবস্টেশন সব এক জায়গায় করা। বারবার সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেয়া হলেও প্রতিকারের কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র মতে, অগ্নি ঝুঁকি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও অগ্নি আইন (২০০৩) অনুযায়ী ৩০টির বেশি নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করার কথা। কিন্তু কেউ এসের তুয়াক্কা করেন না।

ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন উপ সহকারি পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, তাই জেলার অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ভবন গুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ১৫টি ভবনে অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সকল অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এ সাইনবোর্ড লাগানো হবে।

সূত্র বলছে, মার্কেট বা শপিং মলের বাইরের চাকচিক্য দেখে মনে হতে পারে কেনাকাটার জন্য এত ছিমছাম কোনো জায়গা হতে পারে নাকি? সেটা হোক শান্তনা, লুৎফা টাওয়ার কিংবা জামান টাওয়ার। কিন্তু বাইরের চাকচিক্যময় মার্কেটের আড়ালে লুকানো সত্য হলো এসব শপিং মল আগুনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। একবার আগুন লাগলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা মুশকিল।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলার মার্কেটগুলোর অধিকাংশই নিয়ম মেনে ভবন তৈরি করেনি। অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে মার্কেটগুলোতে নেই অক্সিজেন সিলিন্ডার, পানির রিজার্ভ ট্যাংক, বালুভর্তি বালতি ও রেসকিউ সিঁড়িসহ অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী। বিশেষ করে পুরনো মার্কেটগুলোর বেশির ভাগেই নেই অগ্নিনির্বাপণে কোনোরকম ব্যবস্থা।নতুন মার্কেটগুলোর অনেকগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল অক্সিজেন সিলিন্ডার দেখা গেলেও পানির রিজার্ভ ট্যাংক বা আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দেখা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ যে সব মার্কেট রয়েছে এর মধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে, নগরীর সিরাজদ্দৌল্লা রোডের সোহেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু রোডের সোনার বাংলা সমবায় মার্কেট, ভুলতার গাউছিয়া মার্কেট, কালিরবাজারের সখিনা মঞ্জিল, নওয়াব প্লাজা, আলিম প্লাজা, কালিরবাজারের হক প্লাজা, সিরাজদৌল্লা রোডের সিকদার ম্যানশন, লাল মিয়া মার্কেট, সুরুজ আলী মার্কেট, কাজী ভবন, ফাতেমা টাওয়ার, ফ্রেন্স মার্কেট, এসএম মালেহ রোডের হাবিব শপিং কমপ্লেক্স, নয়ামাটির অর্চনা মার্কেট, বঙ্গবন্ধু সড়কের নুর ভিলা মার্কেট, সিরাজউদ্দোল্লা রোডের জামির আহমেদ মার্কেট, মহিম গাংগলী রোডের আল জয়নাল অলংকার প্লাজা।

এছাড়াও অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে শহরের লঞ্চঘাটের ডিআইটি মার্কেট, বঙ্গবন্ধু রোডের সমবায় নিউ মার্কেট, বেলী টাওয়ার, খাজা সুপার মার্কেট, শান্তনা মার্কেট, চাষাড়ার সিটি করপোরেশন মার্কেট, লুৎফা টাওয়ার, জামান টাওয়ার, আল হাকিম সেন্টার, হক প্লাজা, দেওভোগ এল এন রোডের হৃদম প্লাজা, কালিরবাজারের শ্রী শ্রী জয় কালী মন্দির মার্কেট, এসএম মালেহ রোডের রিভার ভিউ কমপ্লেক্স, ফারজানা টাওয়ার, রিভার ভিউ কমপ্লেক্স, বিবি রোর্ডের ডিআইটি মার্কেট, গুলশান মার্কেট, আজহার সুপার মার্কেট, মালেহ রোডের হাশেম ট্রেড সেন্টার, বিবি রোডের পানোরামা প্লাজা, সায়াম প্লাজা, কে এফ টাওয়ার, নয়ন সুপার মার্কেট, জলিল সুপার মার্কেট, গুলশান সিনেমা হল মার্কেট, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেট, নিউ জামির মার্কেট, এফ রহমান সুপার মার্কেট, ওয়ালী সুপার মার্কেট, দেওভোগের সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, বিবি রোডের জনতা সুপার মার্কেট, রিয়াজ সুপার মার্কেট, করিম মার্কেট, জে এস সুপার মার্কেট, হাজী আব্দুল মোতালেব সুপার মার্কেট, হাকিম মার্কেট, বর্ষন সুপার মার্কেট, স্বপ্ননীড় ফাতেমা পয়েন্ট, আলী আহমেদ চুনকা সড়কের শেরে বাংলা মার্কেট, বিবি রোডের গ্রীন সুপার মার্কেট,ডায়মন্ড সিনেমা হল মার্কেট, বিনোদন সুপার মার্কেট ও থানা পুকুরপাড় মসজিদ মার্কেট।

শহরতলীর মার্কেট গুলোর মধ্যে রয়েছে বন্দর ফায়ার সার্ভিস রোডের সুরুজ্জামান টাওয়ার, বন্দরের এমএম শাহা রোডের শেখ গফুর প্লাজা, মোরগড়াপাড়ার আম্বিয়া মার্কেট, সোনারগাঁ শপিং কমপ্লেক্স, জালার টাওয়ার, রহমান ম্যানশন, র‌্যালী বন্দরের চৌধুরী প্লাজা, রূপসী বাস স্ট্যান্ডের হাজী জুলহাস ভূইয়া শপিং কমপ্লেক্স, মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার নুর সুপার মার্কেট, আইয়ুব প্লাজা ও মেঘনাঘাটের নিউ টাউন শপিং কমপ্লেক্স।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী দুর্ঘটনা রোধে মার্কেটের অবস্থান, ব্যবহৃত ফ্লোরের আয়তন, সাধারণ সিঁড়ির প্রশস্ততা, অগ্নিনির্বাপণ কাজে সিঁড়ির ব্যবস্থা, জরুরি প্রস্থানের সিঁড়ির সংখ্যা, প্রতি তলায় সেফটি লবির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা। এ ছাড়া ছাদে ওঠার সিঁড়ির সংখ্যা বেশি থাকা, ছাদের দরজা খোলা রাখা, বহির্গমন দরজার সংখ্যা বেশি রাখা, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংক মজুদ (৫০ হাজার গ্যালন) রাখা, ১০ হাজার গ্যালনের ওভার হ্যাড ওয়াটার ট্যাংক থাকা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারে কনসিল ওয়্যারিং থাকা, বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বক্স ও ডিমান্ড বক্সের নিরাপদ অবস্থানে থাকা এবং প্রতি পয়েন্টে ৫ কেজি পরিমাণের সিওটু ফায়ার এক্সটিংগুইসার সংরক্ষণ করা, স্মোক ও হিট ডিটেক্টর রাখা এবং মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মীদের নিয়মিত অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ করানোর কথা। কিন্তু এসব নিয়ম কেউ মানছেন না আর মানার জন্য আইন প্রয়োগও হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা সব গুলো ভবন মালিককে সতর্ক করেছি। লিখিত নোটিশ দিয়েছি। পাশাপাশি ব্যাংক গুলোকেও ব্যবববস্থা নিতে নোটিশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে জেলার সব ঝুঁকি পূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে এর তালিকা উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে দাখিল করব।


 
 

Leave a Comment

 
  Please Login For Comments. Or Registration(Sign Up)